আবারও সংস্কার আসছে BCS এ!

Abu Kamal Md Nasiruddin

Written by: abu-kamal-md-nasiruddin


About : আবু কামাল মোহাম্মাদ নাছির উদ্দিন বাংলাদেশের প্রথম বাংলা টিউটোরিয়াল ভিত্তিক অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়া "শিক্ষা বাতায়ন"এর প্রতিষ্ঠাতা । তিনি ৩০ তম BCS (General Education) এর একজন কর্মকর্তা। তিনি বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে দর্শন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।

7 months ago | Date : November 30, 2016 | Category : বিসিএস | Comment : Leave a reply |

পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) বিসিএস পরীক্ষায় ব্যাপক সংস্কার আনছে বলে জানা গেছে। নতুন নিয়মে সময় বাঁচিয়ে অল্প সময়ে উপযুক্ত প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষাপদ্ধতি পাল্টে স্বল্পমেয়াদি পরীক্ষাপদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে লিখিত পরীক্ষা হবে ৫০০ নম্বরের। আর কমিয়ে আনা হবে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর।
সূত্রমতে, সব খাতাই রি-চেক করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। পরীক্ষার খাতা কোনো শিক্ষকের বাসায় নেওয়া যাবে না। পিএসসিতে বসেই খাতা দেখা শেষ করতে হবে। আরও বিভিন্ন বিষয় পরিবর্তনের মাধ্যমে পরীক্ষাপদ্ধতির খোলস পাল্টে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পিএসসি।
ইতিমধ্যে জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ পরীক্ষাপদ্ধতির সংস্কার ও পিএসসির আর্থিক ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে কাজ শুরু করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রকাশ। তিনি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে পিএসসিকে নির্বাচন কমিশনের মতো ব্যয় বিভাজনের আর্থিক স্বাধীনতা দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। গত ২৬ অক্টোবর অর্থমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে তিনি বলেছেন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের আর একটি মাত্র কমিশন আছে, তা হলো বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসিকে এরই মধ্যে বরাদ্দকৃত বাজেটের মধ্যে ব্যয় বিভাজনের আর্থিক স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, তাঁরা শিগগিরই এ-সংক্রান্ত আর্থিক স্বাধীনতা পিএসসিকেও দেবেন।
এ প্রসঙ্গে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘বর্তমান পরীক্ষাপদ্ধতিতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। বর্তমান যুগে একজন প্রার্থীর পক্ষে মাসের পর মাস ধরে পরীক্ষা দেওয়া সত্যি কষ্টকর। জটিল পরীক্ষাপদ্ধতির জন্য অনেক মেধাবী প্রতিযোগিতামূলক এ পরীক্ষায় অংশ নেন না। এ ছাড়া আরও বেশ কিছু কারণে আমরা কিছু সংস্কার করব। তবে এই সংস্কারের জন্য একটু সময় লাগবে। কারণ বর্তমানের যে পদ্ধতি, তা রাতারাতি পাল্টে ফেলা যাবে না। এগুলো চালু রেখেই আমরা সংস্কার করব।’
পিএসসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিভিন্ন পরীক্ষার নম্বর কমালেও প্রার্থীদের মেধা ও যোগ্যতা যাচাইয়ে কোনো ঘাটতি হবে না। কারণ কম নম্বরের মধ্যেও স্ট্যান্ডার্ড প্রশ্ন করে প্রার্থীর মেধা ও যোগ্যতা যাচাই করা সম্ভব। যথাযথ মেধা ও যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য কেবল দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা নিতে হবে-এমন কোনো কথা নেই।’
উল্লেখ্য, বর্তমান বিসিএস পরীক্ষাপদ্ধতি তিন স্তরবিশিষ্ট। ২০০ নম্বরের এমসিকিউ টাইপের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পর প্রার্থীদের বসতে হয় লিখিত পরীক্ষায়। ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার পর তৃতীয় স্তরে ২০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা দিতে হয়। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি ও বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে ২০০ করে ৬০০ এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা এবং সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে ১০০ করে মোট ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
পিএসসির নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রকাশ, এই ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নিতে পিএসসির এক মাসের বেশি সময় লেগে যায়। ৩৭তম বিসিএসের প্রার্থী ছিল ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৬ জন। এর মধ্যে ৮ হাজার ৫২৩ জনকে বাছাই করা হয়েছে ১ হাজার ২২৬টি পদের জন্য। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ করতেই আট মাস সময় লেগেছে। এই দীর্ঘ সময় প্রার্থীদের পরীক্ষা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। এরপর লিখিত পরীক্ষা তো আছেই। মৌখিক পরীক্ষা শেষে ৩৭তম বিসিএসের ফল প্রকাশের প্রত্যাশিত তারিখ হচ্ছে ২০১৭ সালের ৩ আগস্ট। এ অবস্থায় পিএসসি কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বর্তমান পরীক্ষাপদ্ধতি সময়োপযোগী নয়। তাই এটা পরিবর্তন করা হবে। কমিয়ে আনা হবে বিসিএসের বিস্তৃত সিলেবাস। বাংলার ওপর নির্ভরতা কমানো হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। মৌখিক পরীক্ষায় এত বেশি নম্বর থাকলে দুর্নীতির দুয়ার খুলে যায় বলে তাঁরা মনে করেন। কিন্তু লিখিত পরীক্ষায় দুর্নীতির সুযোগ কম। প্রস্তাব রয়েছে, লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমে ৫০০ হলে মৌখিকে তা সর্বোচ্চ ১০০ হতে পারে।
পিএসসির চেয়ারম্যান জানান, বিভিন্ন সময় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমানো-বাড়ানো হয়েছে। নিশ্চয়ই এটার প্রয়োজন ছিল। অনেক সময় লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত মেধা যাচাই করা সম্ভব হয় না। মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব বোঝা যায়। সার্বিক বিষয়ে তাঁর জ্ঞান ও দক্ষতা কতটা প্রখর, তা অনুমান করা যায়। এসব কারণে পিএসসি মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর রাখার পক্ষে।
শিক্ষা বাতায়ন
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিএসসির একাধিক সদস্য জানান, পিএসসি সরকারের রাজস্বভান্ডার সমৃদ্ধ করছে। একটা বিসিএসে পিএসসির ফান্ডে জমা হয় প্রায় আট কোটি টাকা। সেখান থেকে মাত্র তিন কোটি টাকা খরচ হয় সংশ্লিষ্ট বিসিএসের সব কার্যক্রম শেষ করতে। বাকি টাকা জমা হয় সরকারের কোষাগারে। এসব কারণে পিএসসি আরও কিছু টাকা ব্যয় করে হলেও সার্বিক বিষয়ে একটা মানোন্নয়ন ঘটাতে চাইছে। বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর পরীক্ষা নিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিতে হয়। কিন্তু এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্টরা পিএসসির বিসিএস পরীক্ষার বিষয়ে আগ্রহ দেখান না। কারণ, শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা হলে দায়িত্ব পালন করে যে পরিমাণ টাকা পাওয়া যায়, পিএসসির পরীক্ষায় এর চেয়ে অনেক কম টাকা পাওয়া যায়। একটা বোর্ডের পরীক্ষায় এক দিনে এক হাজার টাকাও আয় করা যায়। আর পিএসসির পরীক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্টরা সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা পেতে পারেন। এ কারণে পরীক্ষা গ্রহণ-প্রক্রিয়ায়ও সংস্কার আনতে চাইছে পিএসসি।
সূত্রমতে, বর্তমানে পরীক্ষকদের খাতা দেখার জন্য খাতা তাঁদের বাসায় নিতে দেওয়া হয়। যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই সমস্যা দূর করার উপায় খুঁজে বের করেছে পিএসসি। সংস্কারের অংশ হিসেবে খাতা আর পরীক্ষকের বাসায় পাঠানো হবে না। পরীক্ষক পিএসসিতে বসে খাতা দেখবেন। তাঁর যত রকমের সহায়তা দরকার পিএসসি তাঁকে দেবে। এতে সংশ্লিষ্টরা কম সময়ে অনেক বেশি খাতা দেখতে পারবেন। ফলে কম সময়ে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে। প্রয়োজনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাতা দেখার জন্য পরীক্ষকদের অতিরিক্ত টাকা দেওয়া হবে, অর্থাৎ তাঁদের সম্মানী ভাতা বাড়িয়ে দেওয়া হবে।
সূত্রমতে, বর্তমান নিয়মে একজন খাতা দেখেন। এতে ভুল হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। নতুন ব্যবস্থায় ভুল করার এই ঝুঁঁকি থেকে বের হয়ে আসার জন্য খাতা রি-চেক করা হবে। প্রতিটি খাতাই রি-চেক করা বাধ্যতামূলক করা হবে। এতে আপাতত সময় বেশি লাগবে মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সময় বেশি লাগবে না। কারণ, খাতা দেখানো হবে সরাসরি পিএসসিতে।
পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর এমসিকিউ টাইপ বাছাই পরীক্ষা মেশিন রিডেবল উত্তরপত্রে গ্রহণ করা হয়। পরীক্ষার উত্তরপত্র ওএমআর মেশিনে স্ক্যান করে ফল তৈরি করা হয়। পিএসসির মাত্র চারটি ওএমআর মেশিন রয়েছে। আরও একাধিক ওএমআর মেশিন কেনা হবে। সংস্কারের আওতায় ফল যেন প্রযুক্তির সহায়তার অল্প সময়ে তৈরি করা যায়, সেই বিষয়ও গুরুত্ব পাবে।
জটিল মেধা কোটায় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পিএসসির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য বলেন, ‘যতই কোটা সিস্টেম থাকুক, প্রকৃত মেধাবীরাই বিসিএস চাকরি পান। কারণ প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সবাই সমানভাবে অংশগ্রহণ করেন। এসব ধাপ পেরোলেই কেবল কোটার প্রশ্ন। এ ছাড়া যখন কোটার প্রার্থী পাওয়া না যায়, তখন মেধা কোটা থেকেই প্রার্থীদের চাকরি দেওয়া হয়।’
উল্লেখ্য, বিসিএসসহ প্রথম শ্রেণি ও দ্বিতীয় শ্রেণির সব চাকরি ৪৫ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে হয়। অবশিষ্ট ৫৫ শতাংশ চাকরি হয় প্রাধিকার কোটায়।

tags: ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

Leave a Reply


↑ Top