নবী- রাসূলগণের কাফেলা | পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ২৫ জন নবীর নাম ও জীবনী কাল

Abu Kamal Md Nasiruddin

Written by: abu-kamal-md-nasiruddin


About : আবু কামাল মোহাম্মাদ নাছির উদ্দিন বাংলাদেশের প্রথম বাংলা টিউটোরিয়াল ভিত্তিক অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়া "শিক্ষা বাতায়ন"এর প্রতিষ্ঠাতা । তিনি ৩০ তম BCS (General Education) এর একজন কর্মকর্তা। তিনি বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে দর্শন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।

6 months ago | Date : November 5, 2016 | Category : Islamic Life | Comment : Leave a reply |

পবিত্র কুরআনে ২৫ জন নবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের কারও কারও আলোচনা বিভিন্ন সুরায় একাধিক জায়গায় স্থান পেয়েছে। আবার কারও কারও নামে সুরার নামকরণ করা হয়েছে। বর্ণিত ২৫ জন নবীর নাম ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হলো

 

১. হযরত আদম (আঃ)

হজরত আদম আলাইহিস সালাম। মোট ৯টি সুরার ২৫ জায়গায় তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সর্বপ্রথম মানুষ ও নবী ছিলেন। হযরত আদম (আঃ)পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন ৯৩০ বছর।    

২. হযরত নূহ (আঃ)

হজরত নুহ আলাইহিস সালাম। ২৮টি সুরায় ৪৩ বার উল্লেখ করা হয়েছে এই নবীর নাম। তিনি নিজ জাতিকে সাড়ে ৯শ’ বছর দাওয়াত দিয়েছেন। তার ছেলে কেনানকে কুফরির কারণে আল্লাহতায়ালা মহাপ্লাবনে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। হযরত নূহ (আঃ) পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন ৯৫০ বছর। 

৩. হযরত হূদ (আঃ)

হজরত হুদ আলাইহিস সালামের নাম তিনটি সুরায় সাতবার উল্লেখিত হয়েছে। তাকে আদ জাতির নিকট প্রেরণ করা হয়েছিল। নূহ আ.-এর সম্প্রদায়কে প্লাবন দ্বারা ধ্বংস করার পর সর্বপ্রথম তার সম্প্রদায়ের লোকেরা মূর্তিপূজায় লিপ্ত হয় এবং আল্লাহ তাদেরকে প্রচন্ড ঝড় দ্বারা ধ্বংস করে দেন। হযরত হূদ (আঃ)পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন ২৬৫ বছর।   

৪. হযরত ইদরীস (আঃ)

হজরত ইদরিস আলাইহিস সালাম। কোরআনের দু’টি সুরায় দু’বার উল্লেখ হয়েছে তার নাম। তিনি সর্বপ্রথম কলম দ্বারা লিখেছেন। আল্লাহতায়ালা তাকে সিদ্দিক হিসেবে কোরআনে আখ্যা দিয়েছেন এবং তিনি সর্বপ্রথম কাপড় সেলাই করে পরিধান করা শুরু করেন। হযরত হূদ (আঃ)পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন ৩৫৬ বছর।  

৫. হযরত সালেহ (আঃ)

হজরত সালেহ আলাইহিস সালামের নাম চারটি সুরায় ৯ স্থানে উল্লেখ আছে। তাকে ছামূদ জাতির নিকট প্রেরণ করা হয়। সালেহ আ.-এর মুজেযা ছিল উটনি। হযরত হূদ (আঃ)পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন ৫৮৬ বছর।  

 ৬. হযরত লূত্ব (আঃ)

হজরত লুত আলাইহিস সালাম। চৌদ্দটি সুরায় ২৭ বার উল্লেখ করা হয়েছে তার নাম। তার স্ত্রী কাফের ছিল। তার সম্প্রদায়ের লোকেরা সমকামিতার মতো পাপে লিপ্ত ছিলো। ফলে আল্লাহতায়ালা তাদের কঠোর শাস্তি প্রদান করেন।

৭. হযরত ইব্রাহীম (আঃ)

হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের নাম ২৫ সুরায় ৬৯ বার উল্লেখ হয়েছে। তিনি ইরাকে জন্মগ্রহণ করেন ও ফিলিস্তিনে বসতি স্থাপন করেন। পরে আল্লাহতায়ালার হুকুমে স্ত্রী ও শিশু সন্তান ইসমাঈলকে জনমানবহীন মক্কায় রেখে আসেন।

হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে আবুল আম্বিয়া বা নবীদের পিতা বলা হয়। তিনি ছেলে ইসমাঈলকে সঙ্গে নিয়ে কাবা ঘর নির্মাণ করেন ও সর্বপ্রথম মানুষকে বায়তুল্লাহর হজ করার জন্য আহ্বান করেন। হজরত ইবরাহিম (আঃ)পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন ১৯৫ বছর।   

৮. হযরত ইসমাঈল (আঃ)

হজরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম। আট সুরায় ১২ জায়গায় উল্লেখ হয়েছে এই নবীর নাম। জন্মের পূর্বেই তাকে বিজ্ঞ বলে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছিল। হজরত ইবরাহিম (আঃ)পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন ১৩৭ বছর।

৯. হযরত ইসহাক্ব (আঃ)

হজরত ইসহাক আলাইহিস সালাম। কোরআনের ১২টি সুরায় মোট ১৭ বার আলোচিত হয়েছে তার নাম। তিনি ও ইসমাঈল আ. সম্পর্কে ভাই ছিলেন। হযরত ইসহাক্ব (আঃ) পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন ১২০ বছর।

১০. হযরত ইয়াকূব (আঃ)

হজরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম। ১০টি সুরায় ১৬ বার আলোচিত হয়েছে তার নাম। তার আরেক নাম হলো ইসরাইল। তার নামানুসারে বনী ইসরাঈল সম্প্রদায়ের নামকরণ করা হয়েছে। হযরত ইয়াকূব (আঃ) পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন ১৩৯ বছর।

১১. হযরত ইউসুফ (আঃ)

হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম। তিনটি সুরায় ২৭ বার উল্লেখ হয়েছে তার নাম। এ ছাড়া সুরা ইউসুফ নামে হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘটনা সম্বলিত একটি স্বতন্ত্র সুরা রয়েছে কোরআনে। তিনি নিজে নবী ছিলেন এবং তার পিতা ইয়াকুব আ., তার দাদা ইসহাক আ. ও পরদাদা ইবরাহীম আ. নবী ছিলেন। হযরত ইউসুফ (আঃ) পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন ১১০ বছর।

১২. হযরত আইয়ূব (আঃ)

হজরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম। চারটি সুরার চার জায়গায় আলোচিত হয়েছে তার নাম। আল্লাহতায়ালা তাকে দীর্ঘকাল কঠিন অসুখ দিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন। কিন্তু তিনি ধৈর্যধারণ করে ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। হযরত আইয়ূব (আঃ)পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন ১৪৬ বছর। 

১৩. হযরত শুআয়েব (আঃ)

হজরত শোয়াইব আলাইহিস সালাম। চার সুরায় ১১ বার উল্লেখ করা হয়েছে তার নাম। তার সম্প্রদায়ের লোকেরা মাপে বা ওজনে কম দেওয়ার প্রেক্ষিতে আজাবপ্রাপ্ত হয়েছিল। হযরত শুআয়েব (আঃ) পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন ৮৮২ বছর।   

১৪. হযরত মূসা (আঃ)

হজরত মুসা আলাইহিস সালাম। পবিত্র কোরআনে সবচেয়ে বেশি বার তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ৩৪টি সুরায় ১৩৭ বার আলোচিত হয়েছেন তিনি। বনী ইসরাঈলের প্রথম নবী ছিলেন তিনি। জন্মের পর মুসা আলাইহিস সালামকে তার মা বাক্সে ভরে নীল নদে ভাসিয়ে দেন। আল্লাহর কুদরত হিসেবে পরে তিনি জালেম বাদশা ফেরাউনের বাড়িতে লালিত-পালিত হন। নবী মুসাকে আল্লাহতায়ালা অনেকগুলো মুজেযা দিয়েছিলেন। তন্মধ্যে একটি হলোÑ মুসা আ. তার হাতের লাঠি মাটিতে রেখে দিলে তা বিশাল বড় সাপে পরিণত হতো। পরে তিনি সেটা হাতে নিলে আবার লাঠি হয়ে যেত। হযরত মূসা (আঃ) (আঃ)পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন ১২৫ বছর।

১৫. হযরত হারুন (আঃ)

হজরত হারুন আলাইহিস সালাম। ১৩টি সুরায় ২০ বার আলোচিত হয়েছেন তিনি। তিনি নবী মুসা আ.-এর ভাই ছিলেন। বাগ্মীতার পারদর্শী ছিলেন তিনি। হযরত হারুন (আঃ) পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন ১১৯ বছর। 

১৬. হযরত ইউনুস (আঃ)

হজরত ইউনুস আলাইহিস সালাম। দু’টি সুরায় দু’বার উল্লেখ হয়েছে তার নাম। তাকে মাছে গিলে ফেলেছিল। পরে তিনি দোয়া করার পর আল্লাহতায়ালা তাকে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি নিনুওয়া এলাকার লোকদের নিকট প্রেরিত হয়েছিলেন। পূর্ববর্তী সমস্ত নবীর অধিকাংশ উম্মত তাদের সঙ্গে কুফরি করলেও ইউনুস আ.-এর সম্প্রদায়ের সবাই তার প্রতি ঈমান এনেছিলেন।

১৭. হযরত দাঊদ (আঃ)

হজরত দাউদ আলাইহিস সালাম। ৯টি সুরায় ১৬ বার উল্লেখ হয়েছে তার নাম। তিনি নিজে রোজগার করে সংসার চালাতেন। তাকে যাবুর কিতাব প্রদান করা হয়েছিল। তিনি একদিন রোজা রাখতেন, আরেকদিন রাখতেন না।

১৮. হযরত সুলায়মান(আঃ)

হজরত সোলায়মান আলাইহিস সালাম। সাতটি সুরায় ১৭ বার উল্লেখ হয়েছে তার নাম। তিনি সারা পৃথিবীর বাদশাহ ছিলেন। পশু-পাখীদের ভাষা বুঝাসহ মুজেযাস্বরূপ বাতাস নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা পেয়েছিলেন তিনি।

হযরত সুলায়মান(আঃ) পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন ১৫০ বছর।   

১৯. হযরত ইলিয়াস (আঃ)

হজরত ইলিয়াস আলাইহিস সালাম। দু’টি সুরায় তিনবার উল্লেখ করা হয়েছে তার নাম।

২০. হযরত আল ইয়াসা (আঃ)

হজরত ইয়াসা আলাইহিস সালাম। কোরআনে কারিমের দু’টি সুরায় দু’বার আলোচনা করা হয়েছে তার প্রসঙ্গ।

২১. হযরত যুল-কিফল (আঃ)

হজরত যুলকিফল আলাইহিস সালাম। দু‍’টি সুরায় দু’বার আলোচিত হয়েছে তার নাম।

২২. হযরত যাকারিয়া (আঃ)

হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালাম। চারটি সুরায় সাতবার উল্লেখ হয়েছে পেশায় কাঠুরে এই নবীর নাম। হযরত যাকারিয়া (আঃ) পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন ২০৭ বছর।     

২৩. হযরত ইয়াহ্ইয়া (আঃ)

হজরত ইয়াইয়া আলাইহিম সালাম। চারটি সুরায় পাঁচবার উল্লেখ হয়েছে তার প্রসঙ্গ। তাকে কিশোর অবস্থাতেই আল্লাহ জ্ঞানী করেছিলেন এবং তাকে তাওরাতের শিক্ষা দিয়েছিলেন। হযরত যাকারিয়া (আঃ) পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন ৯৫ বছর।    

২৪. হযরত ঈসা (আঃ)

হজরত ঈসা আলাইহি সালাম। ১১টি সুরায় ২৫ বার উল্লেখ হয়েছে তার প্রসঙ্গে। তিনি বনী ইসরাইল সম্প্রদায়ের সর্বশেষ নবী। তার আরেক নাম মাসিহ।

২৫. হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)

হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। চারটি সুরায় মাত্র চার জায়গায় তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য স্থানে তার গুণবাচক নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অথবা আইয়ুহান নবী কিংবা আইয়ুহার রাসুল বলে সম্বোধন করা হয়েছে। এটা বিশ্বনবীর সম্মান ও মর্যাদার পরিচয় বহন করে। হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন ৬৩ বছর।    

শিক্ষা বাতায়ন  

tags: ,,,,,,,

Leave a Reply


↑ Top